এই বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত। সিএইচটিনিউজ কর্তৃপক্ষ এর কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করেনা।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিঃ রাষ্ট্রের প্রতি অশ্রদ্ধা নাকি সরকারের প্রতি?

মাত্র একদিন আগে "বাংলাদেশ" নামের প্রিয় ভূখন্ড'র বিজয় অর্জনের চারদশক পূর্তি হলো। পৃথিবীর মানচিত্রে যুদ্ধজয়ী একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের চলি্লশ বছর উদ্যাপন নিঃসন্দেহে আনন্দের-উপভোগের এবং উচ্ছসিত গৌরবের।
আমার মনে হয়, আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক-স্মরণযোগ্য ঘটনা। অনেকের জীবনে এই দিনটিই বিজয় উৎসব দেখার শেষদিন হয়ে থাকবে হয়তো। সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তিগুলো, এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে যথাসাধ্য বর্ণাঢ্য আয়োজনে শামিল হয়েছে। আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সাথে পার্বত্য জনপদের এক অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস সবার জানা আছে। ব্রিটিশ আমলের মহকুমা "রামগড়"-র বিশাল এক ভৌগলিক অবদান, জাতিরাষ্ট্রের জীবনে কখনোই ভোলার নয়। একই সাথে মহালছড়ি লাগোয়া বুড়িঘাটের সন্মুখ সমরে প্রাণ সঁপে দেয়া বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধিসৌধও এই পাহাড়ী জনপদেই। বান্দরবানে এখনো জীবিত আছেন, বীরপ্রতীক ইউকেচিং। মহালছড়ির আরো একটি যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। মানিকছড়ি ঐতিহ্যবাহী মং সার্কেলের রাজা (প্রয়াত) মংপ্রুসাইনের মুক্তিযুদ্ধকালীন উদার অবদানের কথা বিবৃত হয়েছে আরো এক কীর্তিমান বীর মুক্তিযোদ্ধা লেঃ কর্ণেল নুরনবী খান বীরবিক্রম লিখিত একটি ইতিহাস নির্ভর গ্রন্থে। 

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১১

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার: বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সমস্যা ও সম্ভাবনা

হাইকোর্টের সামপ্রতিক রায়ের ফলে সংবিধান সংশোধের জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এটি একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, সরকারের সাহসী পদক্ষেপ। অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক নিরসনে সরকার যেহেতু একটি সময়োপযোগী ও বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন, এ কারণে তাঁদের কাছে আরেকটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য লেখকের বিনীত উপস্থাপন।
ইতোপূর্বেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দাবী অনুযায়ী তাঁদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, উপজাতীয় শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাইমারী লেবেল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া এবং 'ড্রপ আউট' রোধ করা। পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় গ্রন্থ রচনায় নিয়োজিত হয়েছেন 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট' এবং ইতোমধ্যে তাঁরা কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় গ্রন্থ রচনা করে কোমলমতি শিক্ষাথর্ীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠদান প্রক্রিয়া; যা নিঃসন্দেহে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি সাহসী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

এই শহর ছেড়ে পালাবো কোথায়?

"পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্তে জল ছলছল করে
নৌকার গলুই ভেঙে আসে কৃষ্ণা প্রতিপদে
জলজ গুল্মের ভরে, ভরে আছে সমস্ত শরীর
আমার অতীত নেই, ভবিষ্যতও নেই কোনখানে।" 


প্রতিটি ভুলই এক একটি শুদ্ধতার পথ দেখায়। আর দুঃখ হচ্ছে জীবনের এমন একটি অলঙ্কার যা জীবনকে শুদ্ধ করে, পরিপূর্ণতা আনার চ্যালেঞ্জ এনে দেয় দেহে মনে আর প্রাণেও। কিন্তু ভুল থেকে, বিচু্যতি থেকে শিক্ষা নেয়ার কিংবা পথের অবলম্বন খুঁজে নেয়ার প্রবণতা খুবই কম আমাদের দেশে। যে যার ভুল, যে যার ব্যর্থতা আড়াল করতেই, লুকোতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে সবচে' বেশি ধূর্ত ও কৌশলী। জনতার সাথে সাপলুডু খেলায় প্রতিদিন, নিত্যসময় মেতে উঠে এ দেশীয় রাজনীতির পেশাদার খেলোয়াড়রা। খুউব সুকৌশলে, দক্ষতার সাথে। তাইতো আমরা দেখি-অনেক রক্তের স্রোতধারা পেরিয়ে শেষতম অবলম্বনের মত দাঁড়িয়ে থাকা 'পার্বত্য শান্তিচুক্তি' বাস্তবায়ন হয়না অজানা কারণে, কারো ভুলে,কারো আপোষকামিতায়, কারো সুবিধাবাদে, কারো সহিংসতায়ও বটে! শান্তিচুক্তি হয়, শান্তি আসেনা। রক্ত ঝরে ফুরোমোন, সাজেক আর চিম্বুকের পাদদেশে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ঘর ছাড়া পাহাড়ী যুবকের গ্রামে ফেরা হয়না (অথবা ফিরতে পারে না) 'আপোষকামী আর সুবিধাবাদী' বিতর্কে। লাশ হয়ে যাবার ভয়েও। এখন ভয়ের সময়, সংহতির নয়। সবুজ পাহাড়ে এখন লাশের উৎসব, শান্তির নয়। তবুও আমরা শান্তিকামী মানুষ আশায় বুক বাঁধি, নতুন আলোর ভোরের প্রত্যাশায়। অপহরণ, খুন, জিঘাংসা বন্ধ হয়ে আবারও জুম পাহাড়ে ভালোবাসার গান গেয়ে উঠবে কোনো জুম্মবী, ভালোবাসায়-উচ্ছাসে। 

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১১

মানব জীবনে বন : প্রকৃতির যে ঋণ শোধ হবার নয়

ছড়া নদীর জীবন বাঁচায় বন। পৃথিবীর ৫০ শতাংশ বড় বড় শহরের পানি সরবরাহের উৎস বন। মানব সন্তানের জীবনও বাঁচায় বন। পৃথিবী নামের গ্রহটির সবুজাভ চেহারা বাঁচিয়ে রাখে বন। পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল বন দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই বনে পৃথিবীর মোট প্রজাতির অর্ধেকেরও বেশি প্রাণী, বৃক্ষ ও কীট-পতঙ্গ থাকে। বিশ্বের ১.৬ বিলিয়ন মানুষের জীবিকা বনের উপর নির্ভরশীল। কার্বন ডাই অক্সাইড শোষন করে নিয়ে অক্সিজেন বিতরণ করে পৃথিবীর জীব জগতকে রক্ষা করার জন্য। এভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামে অবদান রাখে আমাদের বন ও প্রকৃতি। বন্যা, ঘুর্নিঝড় ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে উত্তরণে বন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। কারণ এই বনই মাটির উর্বরতা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে। বনের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর জন্য বাসস্থান, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গও দেয় এই বন। এই বন পৃথিবীর সবুজ ফুসফুস, মানব সন্তানের বেঁচে থাকার প্রধানতম উৎস।

বুধবার, ৮ জুন, ২০১১

জাতীয় বাজেটে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের প্রবেশাধিকার এবং জনপ্রতিনিধি-নাগরিক সমাজ ও এনজিওর ভূমিকা

প্রতি বছরের জুন মাস এলেই আমাদের দেশে অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী বাজেট প্রনয়ণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সমতলের মানুষ, নানাভাবে-নানা মাধ্যমে বাজেটের বিষয়ে ছিটেফোঁটা ধারণা লাভ করতে পারেন। পাহাড়ের মানুষ বরাবরই বঞ্চিত থাকেন সে সুযোগ থেকে। এই 'ডিজিটাল' বাংলাদেশের আমলেও সে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন ঘটেছে বলে আমাদের মনে হয়না।
অথবা তথ্য অধিকার আইনের মতো জবরদস্ত একটি ভালো আইন হবার পরও পার্বত্যবাসী অর্জন করে নিতে পারেনি বাজেট সম্পর্কে জানা এবং বোঝার বিষয়টি।
১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সময় থেকেই পার্বত্যাঞ্চলে মূলতঃ গণমুখী এবং জন অংশগ্রহণমুলক উন্নয়ন প্রচেষ্টা সরকারীভাবে সূচিত হয়। বেসরকারী উদ্যোগে এ রেয়াজ শুরু হয় আরো প্রায় একদশক পরে যখন ঐতিহাসিক পার্বত্যচুক্তি সম্পাদিত হয়। এমনকি বাজেট প্রনয়ন এবং প্রস্তাবনা প্রক্রিয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কী তাও আমাদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।
অথচ 'পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ' এবং 'পার্বত্য জেলা পরিষদ' এর মতো ব্যতিক্রমী ও শক্তিশালী বিশেষায়িত স্থানীয় সরকার কাঠামো বাংলাদেশে একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামেই বিদ্যমান। কিন্তু এসব কাঠামো পার্বত্যবাসী আপামর জনসাধারণের উন্নয়নের জন্য জাতীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কতোটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে সেটাও দারুন প্রশ্নবিদ্ধ।

সোমবার, ৬ জুন, ২০১১

কমরেড রশীদকে লেখা খোলা চিঠি

( ১৯৮৯ সালের ৪ জুন রাঙামাটি শহরে নিজ পত্রিকা পার্বত্য বার্তা অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত সাংবাদিক আবদুল রশীদ এর স্মরণে )

প্রিয় কমরেড,
জানিনা, না ফেরার দেশে কেমন আছেন আপনি? যে জীবনের খবর এই পৃথিবীতে পৌঁছেনা, সেই অজানা-অচেনা জীবনে আপনি ভালো থাকবেন, এমনটাই কামনা আমাদের। জানি, সেই জীবনে থেকেও আপনার জানতে ইচ্ছে করে ফেলে আসা রাঙামাটির কথা। কেউ না বলুক, আপনার অনুজপ্রতীম এক সহকর্মী হিসেবে, আপনার স্মৃতিমাখা সেই শহরের গল্প জানাতেই এই চিঠি।

প্রিয় কমরেড, প্রিয় সহকর্মী আমার,
আমাকে আপনি ঠিক চিনবেননা। আপনার চির বিদায়ের ছয় বছর পর আপনার আদর্শিক সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান আমার। আর ঠিক এক যুগ পর সাংবাদিকতায় প্রবেশ। স্বভাবতই আমাকে চেনার কথা না আপনার। কিন্তু কমরেড, আপনার স্বভাব, আপনার আদর্শ, আপনার সাহসিকতা, আপনার ঔদ্ধত্য কি করে যেনো ভর করেছে আমার ওপরও। আপনার মতো করে এই শহর আমাকে আপন করলেও, এই শহরের মানুষের যে নিদারুন ভালোবাসা আপনি পেয়েছেন, সেটা আমার বা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বদলে যাওয়া সময়, বদলে যাওয়া মানুষ, বদলে যাওয়া চারপাশ-আরো অনেক কিছুকেই এতো বেশি করে বদলে দিয়েছে যে, আপনি বেঁচে থাকলে কষ্টই পেতেন! কারণ, ভালোমানুষ ক্রমশঃ বন্ধুহীন হতে থাকে, আর বন্ধুহীন হতে হতে একদিন নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। নিঃসঙ্গতার কষ্ট বড় ভয়াবহ। তাই নিঃসঙ্গ হওয়ার আগেই আপনার মৃতু্য আপনাকেই অমর করেছে কমরেড! ঘাকতরা বড় ভুল করে ফেলেছে। জীবিত রশীদের চেয়ে মৃত রশীদ যে কতটা শক্তিশালী সেই হিসেব মিলেনি তাদের।

রবিবার, ৫ জুন, ২০১১

বনজোগীছড়ার সৃজনশীলতা ও 'জাংফা' পাঠের প্রতিক্রিয়া

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে যখন বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা, যুক্তি-বিবেক যখন বন্দী পেশীশক্তির কাছে- ঠিক তখুনিই হাতে এসে পড়েছে কবিবন্ধু নির্মলের পাঠানো "জাংফা" সংকলনটি। অসম্ভব পাহাড়ী অন্তপ্রাণ এবং বিনয়ী কবি নির্মল কান্তি চাকমার সাথে আমার পরিচিতির আয়ু মাত্র আধাযুগ। ১৯৯৬ সালে প্রিয়তম বন্ধু প্রতিভা ত্রিপুরার রাঙ্গামাটি পিটিআই-এ প্রশিক্ষনার্থী হিসেবে যোগ দেবার সুযোগেই নির্মল আমার বন্ধু এবং কিছুটা চিন্তার সহকর্মী হয়ে উঠেন। পেশায় একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চাকমা, চিন্তায় এবং মননে গভীর অনুসন্ধিৎসু একজন মানুষ। নতুন নতুন বই কেনা-পড়া এবং নতুন সৃষ্টি ও চিন্তার উল্লাসে শামিল উদ্যমী এক মানুষ। সংগত কারণেই তাঁর পাঠানো সংকলন পাঠের শুরুতে, আমি তাঁর লেখা পড়ার লোভ সংবরণ করতে পারিনি।
"ইরুক আগুন আর বারোজর কালাধুমোয়
হিলো আগাজ কালা ওই আঘে
সে ধুমোয় আমা মায়
চোগ পোরানী নাক পোরানী"। 

উপরের এ পঙ্ক্তিমালা চাকমা ভাষায় লেখা নির্মলের 'ইরুগর বিঝুর কধা' কবিতা থেকে নেয়া। অনুবাদ করার মতো করে চাকমা ভাষা না বুঝলেও খাঁটি চাঁটগাঁইয়া হবার কারণে এ কবিতা বা চাকমা ভাষায় লেখা অন্যসব লেখা বুঝতে আমার খুব বেশী কষ্ট হয়নি। তাছাড়া চাঁটগাঁইয়া আর চাকমা ভাষা, উচ্চারণ এবং ভাব প্রকাশের ধরণে অনেকটা বন্ধুপ্রতীম।

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১১

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এনজিওর ভূমিকা: প্রস্তুতি যুগের গতি-প্রকৃতি

১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম বলতে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার কার্যক্রমকেই বোঝানো হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এখানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় ছিল। টেরেস ডেস হোমস নামের একটি সংস্থা যুদ্ধপরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া অযাচিত শিশু ও তাদের মায়ের পুনর্বাসনের কাজ করতো, এ্যাকশনএইড আটকে পড়া অবাঙালীদের শেল্টার ও সুরক্ষায় সহায়তা করতো। এ্যাকশনএইড ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির পর ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজেও সক্রিয় ছিল। ব্যতিক্রমী একটি সংগঠন ছিল ক্যানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (CUSO)। Paulo Freire-র নিম্নবর্গীয় দর্শন উদ্ভূত আদর্শগত ভাবধারায় প্রভাবিত ছিল এই সংগঠনটি। ১৯৭৬ সালে স্থানীয় নেতৃত্ব যথেষ্ট গড়ে উঠেছে দাবি করে এই সংগঠনটি তার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলে। এর পরপরই প্রশিকা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং CUSO-র বহু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্র্যাকের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

পাহাড়ের বন্ধ্যা ও উগ্র রাজনীতিঃ কোন পথে নিয়ে যাবে আমাদের

পাহাড়ে বহমান বন্ধ্যা ও উগ্র রাজনীতির রক্তাভ স্রোতধারা, উন্নয়নবঞ্চিত দরিদ্র পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের কোথায় নিয়ে যাবে? সেটি এখন এক বড়ো সংশয়ের জায়গা। অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই পাহাড়ের আইন-শৃঙ্খলা এবং জনমানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নটিই যেন বার বার সামনে চলে আসছে। গত ২১ মে রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত এক হালি প্রাণঘাতী জিঘাংসার দায়ও নিতে চাননি কেউই। মনে হয়, আজগুবি-বায়বীয় যমদেবতা এসে, একের পর এক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছেন। পাহাড়ের বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধ ভাবাপন্ন দুটি দলের বক্তব্য শুনলে তা-ই বিশ্বাস করতে হবে।

সবদোষ সরকারের ঘাড়ে অথবা সুযোগ বুঝে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে চাপিয়ে দিলেই কী সমস্যার সমাধান হয়ে যায়? আবার নিজেরা নিজেরা দ্বন্দ্ব-সংঘাত করে রাজনৈতিক কর্মসূচীও দেয়া হয়। অনেক অসহায় সাধারণ মানুষকে আক্ষেপ করতে শুনি, "নিজের রক্ত নিজে খেয়ে আমরা এখন কুমীর বনে যাচ্ছি"।

শুক্রবার, ২০ মে, ২০১১

বিশ্বজিৎ ত্রিপুরা কানু: সদ্যপ্রয়াত বন্ধুর জন্য এলিজি

প্রাচুর্য্য থেকে দারিদ্র্যে নিপতিত হলে মানুষ খুব অসহায় হয়ে উঠে। কখনো কখনো মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পড়ে। আপনজনদের ওপরও হারিয়ে ফেলে আস্থা। বিশ্বাস-নীতি এবং দৃঢ়তার ভিটেটুকু হয়ে উঠে যেন কচুরীপানার মতো ভাসমান।
আমার সদ্যপ্রয়াত বন্ধু বিশ্বজিৎ ত্রিপুরা কানু, খাগড়াছড়ি শহরের তেমনিই এক পরিণতির শিকার। কাউকে কাউকে মৃত্যু ডেকে নিয়ে যায়, আবার কেউ কেউ মৃত্যুকে ডেকে আনে। কিন্তু আমার বন্ধু কানুর ক্ষেত্রে কোনটা সঠিক তা সময়ই হয়তো বলে দিবে।

এ শহরে যে ক'জন মানুষকে আমি মানুষ মনে করি তারমধ্যে বিশ্বজিৎ ত্রিপুরা, হঠাৎ খসে পড়া এক নক্ষত্র। উচ্চশিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত এ তরুণ রাজনৈতিক কর্মী, বয়সের চেয়ে অর্জন করেছেন অনেক বেশী জনপ্রিয়তা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেঙ্গী নদীর কোলঘেঁষে তাঁর বাড়ীতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের শোকাহত উপস্থিতিই বলে দেয়, একজন কানুর শুন্যতা কতোটা শুন্যতা?